Latest

6/recent/ticker-posts

সাকিব এর যত কেলেঙ্কারি

 প্রকৃত অপরাধে যারা শাস্তির যোগ্য, তাদের উদ্ভট সব মামলায় জড়িয়ে অপরাধীদের প্রতি  সিমপ্যাথি তৈরীর ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে কি? যেমন ধরুন — সাকিব আল হাসান। তাকে গার্মেন্টস কর্মী হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। এ নিয়ে অনেকেরই তার প্রতি এক ধরনের সিমপ্যথি তৈরী হচ্ছে। সাকিবের প্রকৃত অপরাধ কম নেই যে, তাকে এ ধরনের কোন মামলায় ফাঁসাতে হবে। সাকিব বিগত সময়ে এমন অনেক অপরাধ করেছেন, যা বাংলাদেশের আইনে গুরুতর শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। সাংবাদিক ও ক্রীড়া মহলের অনেকেই সে সব বিষয়ে অবগত। ক্রিকেটার হিসেবে দেশের মান সম্মান এবং আওয়ামী মদদপুষ্ট হওয়ার কারণে সেসব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বিগত সময়। সাকিব ভালো ক্রিকেটার, তাই বলে তিনি সকল আইনের উর্দ্ধে, এমন ধারণা ভেঙ্গে দেওয়া উচিত। 


একটি বিশেষ ঘটনাই যদি উল্লেখ করি, তাহলে হয়তো সাকিবের অর্থনৈতিক অপরাধের ধরন বুঝতে পারবেন। 



২০২২ সালে কক্সবাজারে আবাসন খাতের দুর্নীতি অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার বাইপাস সড়কে আরএফ বিল্ডার্স নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের 'হোয়াইট স্যান্ড' প্রকল্পে অর্থ খাটিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন কয়েকশত মানুষ। সেই প্রকল্পের প্রচারণা হিসেবে ২০১৮ সালে বলা হয়, ২০,০০০ বর্গফুটের বাণিজ্যিক এরিয়া বুকিং দিয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল-হাসান। বেশ কিছু মিডিয়ার সংবাদে প্রকাশ হয়, 'কক্সবাজারে সাকিবের হোটেল' 'এবার কক্সবাজারে সাকিবস ৭৫' ও বিভিন্ন চটকদার শিরোনামে। সেই প্রকল্পটি এখন পরিত্যাক্ত। ওই প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছেন হাজারো বিনিয়োগকারী। 



কক্সবাজার বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রাম এলাকায় ২০১২ সালে ১১০ কাঠা জমির উপর ১৮ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে আরএফ বিল্ডার্স। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের আদলেই যেন প্রকল্পটির নাম রাখা হয় 'হোয়াইট স্যান্ড'। বলা হয়েছিল, এই প্রকল্পে বদলে যাবে কক্সবাজার। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ছিলেন হোয়াইট স্যান্ড প্রকল্পের পরিচালক। ক্রিকেটার সাকিব আল-হাসান ২০১৮ সালে এখানে বুকিং দেন ২০,০০০ বর্গফুটের বাণিজ্যিক এরিয়া।  


২০১৮ সালে এক ভিডিও প্রচারণায় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন "আমার আগে সাকিব হাসান যুক্ত হয়েছেন। আমিও যুক্ত হয়েছি। আমরা চাচ্ছি, কক্সবাজারকে বদলে দিতে।"


পাঁচ তারকা হোটেল ও শপিং মলে আজীবন মালিকানা ও টাইম শেয়ারিং এর মতো সুবিধার কথাও বলা হয়েছিল প্রচারণায়। সাকিবের মতো সুপার-স্টার এই প্রকল্পে যুক্ত থাকার দিকটিই মূলত সাধারণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। বিনিয়োগকারীরা তাঁকে বিশ্বাস করেছিলেন। প্রতি ফ্ল্যাটের বিপরীতে ১০-১২ জন করে– ৩০০টি ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয় প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের কাছে। ২৯০ থেকে ৯১০ বর্গফুটের একেকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়- সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকায়। কিন্তু ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও এখন পুরো প্রকল্পটি একরকমের পরিত্যাক্ত। এপর্যন্ত শুধু তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে, যা বর্তমানে গাড়ির গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।


ওই প্রতারণার শিকার কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হালিম। তিনি বলেন, "২০১৫ সালে আর এফ বিল্ডার্স এর 'হোয়াইট স্যান্ড' প্রকল্পে ৯১০ বর্গফুটের একটি টাইম শেয়ারিং ফ্ল্যাট কেনার চুক্তি করি ২৫ লাখ টাকায়। ৬ লাখ টাকা পরিশোধও করেছিলাম। ২০১৮ সালে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও– গত সাত বছরে (২০২২ পর্যন্ত) ফ্ল্যাট যেমন বুঝে পাইনি, তেমনি টাকাও ফেরত পাইনি।"


তিনি আরও বলেন, ‘বাবার পেনশন থেকে ফ্ল্যাট কেনার টাকা দিয়ে দিয়েছিলাম আরএফ বিল্ডার্সকে। পরিবার ভাবছে প্রতারণাটা আমি করেছি, সমাজে কাছে মুখ দেখাতে পারছি না।’


সাংবাদিক Abu Azad এর সাথে এমন অনেকের কথা হয়েছে, যারা জানিয়েছেন সাকিব আল-হাসানকে ওই প্রকল্পে যুক্ত হতে দেখে তাঁরা বিনিয়োগে উৎসাহী হয়েছিলেন, এবং পরিণাম বর্তমানে নিঃস্ব।


এসকল ভুক্তভোগীরা তাদের অর্থ ফেরত এবং সাকিব আল হাসান'সহ জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। 


ছবি :-১ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ‘হোয়াইট স্যান্ড রিসোর্ট' আয়োজিত 'হোয়াইট স্যান্ড নাইট' অনুষ্ঠানে ২০ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি বাণিজ্যিক এরিয়ার বুকিং এ স্বাক্ষর করেন সাকিব আল-হাসান। 


ছবি:-২ : ‘হোয়াইট স্যান্ড রিসোর্ট' প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা। যা রিকশার গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments